আর মুহাম্মদ একজন রাসূল মাত্র; তার আগে বহু রাসূল গত হয়েছেন। কাজেই যদি তিনি মারা যান বা নিহত হন তবে কি তোমরা পৃষ্ঠ প্রদর্শন করবে? আর কেউ পৃষ্ঠ প্রদর্শন করলে সে কখনো আল্লাহ্র ক্ষতি করবে না; আর আল্লাহ শীঘ্রই কৃতজ্ঞদেরকে পুরস্কৃত করবেন [১]।— الترجمة البنغالية
পনরতম রুকু‘
[১] এ আয়াতে হুঁশিয়ার করা হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহিওয়া সাল্লাম একদিন না একদিন দুনিয়া থেকে বিদায় নেবেন। তার পরও মুসলিমদের দ্বীনের উপর অটল থাকতে হবে। এতে আরো বুঝা যায় যে, সাময়িক বিপর্যয়ের সময় রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের আহত হওয়া এবং তার মৃত্যুসংবাদ প্রচারিত হওয়ার পেছনে যে রহস্য ছিল, তা হলো তাঁর জীবদ্দশাতেই তার মৃত্যু-পরবর্তী সাহাবায়ে-কেরামের সম্ভাব্য অবস্থার একটি চিত্র ফুটিয়ে তোলা- যাতে তাদের মধ্যে কোন ক্রটি-বিচ্যুতি পরিলক্ষিত হলে রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বয়ং তা সংশোধন করে দেন এবং পরে সত্যসত্যই যখন তার মৃত্যু হবে, তখন যেন সম্বিত হারিয়ে না ফেলেন। বাস্তবে তাই হয়েছে। রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওফাতের সময় যখন প্রধান প্রধান সাহাবীগণও শোকে মুহ্যমান হয়ে পড়েন, তখন আবু বকর সিদ্দীক রাদিয়াল্লাহু আনহু এ আয়াত তেলাওয়াত করেই তাদের সাস্তুনা দেন। [দেখুন, বুখারীঃ ১২৪১, ১২৪২, ৪৪৫৩, ৪৪৫৪]
১৪৪. মুহাম্মাদ তো কেবল তাঁর পূর্বে মৃত্যু বরণকারী বা হত্যাকৃত রাসূলদের ন্যায় একজন রাসূল। তিনি যদি মরে যান অথবা তাঁকে হত্যা করা হয় তাহলে কি তোমরা নিজেদের ধর্মকর্ম ও জিহাদ ছেড়ে দিবে?! বস্তুতঃ তোমাদের মধ্যকার যে নিজ ধর্ম ছেড়ে দিলো সে কস্মিনকালেও আল্লাহর কোনই ক্ষতি করতে পারবে না। কারণ, তিনি হলেন শক্তিধর পরাক্রমশালী। বরং এর মাধ্যমে ধর্মত্যাগী ব্যক্তি নিজেই নিজকে দুনিয়া ও পরকালের ক্ষতির সম্মুখীন করলো। অচিরেই আল্লাহ তা‘আলা তাঁর কৃতজ্ঞ বান্দাদেরকে তাঁর দ্বীনের উপর অবিচল থাকা ও তাঁর পথে জিহাদ করার দরুন উত্তম প্রতিদান দিবেন।— الترجمة البنغالية للمختصر في تفسير القرآن الكريم