স্মরণ কর, যখন তোমরা ছিলে উপত্যকার নিকট প্রান্তে এবং তারা ছিল দূর প্রান্তে আর আরোহী দল [১] ছিল তোমাদের থেকে নিম্নভূমিতে। আর যদি তোমরা পরস্পর যুদ্ধ সম্পর্কে কোন পূর্বসিদ্ধান্তে থাকতে তবে এ সিদ্ধান্ত সম্পর্কে তোমরা মতভেদ করতে। কিন্তু যা ঘটার ছিল, আল্লাহ্ তা সম্পন্ন করলেন, যাতে যে কেউ ধ্বংস হবে সে যেন সুস্পষ্ট প্রমান পাওয়ার পর ধ্বংস হয় এবং যে জীবিত থাকবে সে যেন সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়ার পর জীবিত থাকে [২]; আর নিশ্চয় আল্লাহ্ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।— الترجمة البنغالية
[১] আরোহী দল বলে এখানে মক্কার কুরাইশ কাফেরদেরকে বোঝানো হয়েছে। যাদের নেতৃত্বে ছিল আবু সুফিয়ান, যারা ব্যবসায়ী পণ্য নিয়ে সমুদ্রের পাশ ঘেঁষে যাচ্ছিল [ইবন কাসীর]
[২] বিনা ঘোষণায় কাফের ও ঈমানদারদেরকে বদরের এ যুদ্ধে নিয়ে আসার পিছনে কি রহস্য রয়েছে আল্লাহ তা'আলা এখানে তাই ব্যক্ত করছেন। আর তা হলো, যাতে তোমাদেরকে কাফেরদের উপর বিজয় দেই, হকের ঝান্ডা বাতিলের উপর বুলন্দ করে দেখাই, ফলে কোনটা হক এবং কোনটা বাতিল তা স্পষ্ট হয়ে যায়। ইসলাম ও তার অনুসারীদের সম্মান বৃদ্ধি পায় এবং কুফর-শিক ও তাদের অনুসারীরা অসম্মানিত হয়। [ইবন কাসীরা] যাতে অকাট্য প্রমাণাদি দ্বারা মানুষ বুঝে নিতে পারে যে, মুসলিমরা হকের উপর আছে ফলে তাদের বিজয় এসেছে, আর কাফেররা বাতিলের উপর আছে ফলে তাদের বিপর্যয় ঘটেছে। সুতরাং যারা জীবিত আছে তারা দলীল প্রমাণসহ হক বেছে নিতে পারে। আর তাদের মধ্যে যে বাতিল বেছে নেয় সে তার স্বইচ্ছায় হক স্পষ্ট হওয়ার পরও বাতিলকে গ্রহণ করে নিজের ধ্বংসকেই ডেকে আনলো। মূলতঃ বদরের যুদ্ধের পর অধিকাংশ মানুষের কাছে হক ও বাতিলের মধ্যে পার্থক্য স্পষ্ট হয়ে যায়। আজও মানুষ বদর যুদ্ধের বিজয়কে হক ও বাতিল চেনার ক্ষেত্রে এক বিরাট নিদর্শন বলে বিশ্বাস করে।
৪২. তোমরা স্মরণ করো সে সময়ের কথা যখন তোমরা মদীনার দিকের উপত্যকার নিকটবর্তী অংশে অবস্থান করছিলে আর মুশরিকরা মক্কার দিকের দূরবর্তী অংশে অবস্থান করছিলো। আর মক্কার ব্যবসায়ী দলটি লোহিত সাগর পাড়ের দিকের নি¤œাঞ্চলে অবস্থান করছিলো। যদি তোমরা ও মুশরিকরা বদরে একত্রিত হওয়ার পরস্পর ওয়াদা করতে তাহলে তোমরা একে অপরের সাথে ওয়াদা খেলাফ করতে। অথচ আল্লাহ তা‘আলা পূর্বের কোন ওয়াদা ছাড়াই বদর এলাকায় তোমাদেরকে একত্রিত করেছেন এমন একটি ব্যাপারকে পরিপূর্ণ করার জন্য যা নিশ্চিতভাবে হওয়ারই ছিলো। তা হলো মু’মিনদেরকে সাহায্য ও কাফিরদেরকে অপদস্ত করা। উপরন্তু তাঁর দীনকে বিজয়ী ও শিরককে পরাজিত করা। যেন তাদের মধ্যকার যারা মৃত্যু বরণ করলো তারা সংখ্যা ও সরঞ্জাম কম থাকা সত্তে¡ও মু’মিনদের বিজয়ী হওয়ার বিষয়টি দেখে যায়। আর যাদের জীবন আছে তারা যেন আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রকাশিত এ দিব্য দলীল ও প্রমাণ দেখে বেঁচে থাকে। যাতে আল্লাহর উপর কারো কোন অভিযোগ না থাকে। বস্তুতঃ আল্লাহ তা‘আলা সকলের কথা শুনেন ও সকলের কর্মকাÐ সম্পর্কে ভালোভাবে জানেন। তাঁর নিকট কোন কিছুই গোপন নয়। তিনি অচিরেই তাদেরকে এর প্রতিদান দিবেন।— الترجمة البنغالية للمختصر في تفسير القرآن الكريم