আর স্মরণ করুন, যখন ইবরাহীম বলেছিলেন, 'হে আমার রব ! এটাকে নিরাপদ শহর করুন এবং এর অধিবাসীদের মধ্যে যারা আল্লাহ্ ও শেষ দিনের প্রতি ঈমান আনে [১] তাদেরকে ফলমূল হতে জীবিকা প্রদান করুন’। তিনি (আল্লাহ্) বললেন, যে কুফরী করবে তাকেও কিছু কালের জন্য জীবনোপভোগ করতে দিব, তারপর তাকে আগুনের শাস্তি ভোগ করতে বাধ্য করব। আর তা কত নিকৃষ্ট প্রত্যাবর্তনস্থল !— الترجمة البنغالية
[১] আলোচ্য আয়াতে মুমিন ও কাফের নির্বিশেষে সমগ্র মক্কাবাসীর জন্য শান্তি ও সুখ স্বাচ্ছন্দ্যের দোআ করা হয়েছে। ইতঃপূর্বে এক দোআয় যখন ইবরাহীম ‘আলাইহিস সালাম স্বীয় বংশধরের মুমিন ও কাফের নির্বিশেষে সবাইকে অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন, তখন আল্লাহ্ তা'আলার পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল যে, মুমিনদের পক্ষে এ দোআ কবুল হল, যালিম ও মুশরিকদের জন্য নয়। সে দোআটি ছিল নেতৃত্ব লাভের দোআ খলীল ‘আলাইহিস সালাম ছিলেন আল্লাহ্র বন্ধুত্বের মহান মর্যাদায় উন্নীত ও আল্লাহ্ভীতির প্রতীক। তাই এ ক্ষেত্রে সে কথাটি মনে পড়ে গেল এবং তিনি দোআর শর্ত যোগ করলেন যে, আর্থিক সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য ও শান্তির এ দোআ শুধু মুমিনদের জন্য করেছি। আল্লাহ্র পক্ষ থেকে এ ভয় ও সাবধানতার মূল্য দিয়ে বলা হয়েছে (وَمَنْ كَفَرَ) অর্থা ৎ পার্থিব সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য আমি সমস্ত মক্কাবাসীকেই দান করব, যদিও তারা কাফের মুশরিক হয়। তবে মুমিনদেরকে দুনিয়া ও আখেরাত সর্বত্রই তা দান করব, কিন্তু কাফেররা আখেরাতে শাস্তি ছাড়া আর কিছুই পাবে না। [ মাআরিফুল কুরআন ]
১২৬. হে নবী! আপনি স্মরণ করুন সে সময়ের কথা যখন ইব্রাহীম (আলাইহিস-সালাম) তাঁর প্রতিপালকের নিকট দু‘আ করতে গিয়ে বলেন: হে আমার প্রতিপালক! আপনি মক্কাকে নিরাপদ শহর বানিয়ে দিন। যাতে কারো প্রতি কোন ধরনের অনাচার করা হবে না। আর আপনি এর অধিবাসীদেরকে হরেক রকমের ফল-ফলাদির রিযিক দিন। বিশেষ করে আপনি নিজের প্রতি ও পরকালের প্রতি বিশ্বাসীদেরকে বিশেষ রিযিক দিন। আল্লাহ তা‘আলা বলেন: আমি এদের মধ্যকার কাফিরদেরকেও সামান্যটুকু দুনিয়া ভোগ করার সুযোগ দেবো। অতঃপর পরকালে তাদেরকে জাহান্নামের আগুনে জ্বলতে বাধ্য করবো। কিয়ামতের দিন তাদের অবস্থানস্থল কতোই না নিকৃষ্ট।— الترجمة البنغالية للمختصر في تفسير القرآن الكريم