আপনি কি ঐ ব্যক্তিকে দেখেননি , যে ইব্‌রাহীমের সাথে তাঁর রব সম্বন্ধে বিতর্কে লিপ্ত হয়েছিল, যেহেতু আল্লাহ্‌ তাকে রাজত্ব [১] দিয়েছিলেন। যখন ইব্‌রাহীম বললেন , ‘আমার রব তিনিই জিনি জীবন দান করেন ও মৃত্যু ঘটান, সে বলল, ‘আমিও তো জীবন দান করি ও মৃত্যু ঘটাই। ইব্‌রাহীম বললেন , ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ্‌ সূর্যকে পূর্ব দিক থেকে উদয় করান , তুমি সেটা কে পশ্চিম দিক থেকে উদয় করাও তো [২]। তারপর যে কুফরী করেছিল সে হতবুদ্ধি হয়ে গেল। আর আল্লাহ্‌ যালিম সম্প্রয়ায়কে হিদায়াত করেন না।
[১] এ আয়াত দ্বারা বোঝা গেল যে, যখন আল্লাহ্‌ তা'আলা কোন কাফের ব্যক্তিকে দুনিয়াতে মান-সম্মান এবং রাজত্ব দান করেন, তখন তাকে সে নামে অভিহিত করা জায়েয। এতে একথাও বোঝা যাচ্ছে যে, প্রয়োজন বোধে তার সাথে তর্ক-বিতর্ক করাও জায়েয, যাতে সত্য-মিথ্যার পার্থক্য প্রকাশ হয়ে যেতে পারে।
[২] কেউ কেউ এরূপ সন্দেহ পোষণ করেছেন যে, সে হয়ত বলতে পারত যে, যদি আল্লাহ্‌ বলে কেউ থাকেন, তবে তিনিই পশ্চিম দিক থেকে সূর্য উদিত করুন। এর উত্তর হচ্ছে এই যে, তার অন্তরে অনিচ্ছা সত্বেও একথা জেগে উঠল যে, নিশ্চয়ই আল্লাহ্‌ আছেন এবং পূর্বদিক হতে সূর্য উদয় করা তাঁর কাজ এবং তিনি পশ্চিম দিক হতেও উদয় করতে পারেন। আর এ ব্যক্তি নবী হয়ে থাকলে অবশ্যই এমন হবে। আর এমন হলে বিশ্বময় এক বিরাট পরিবর্তন সৃষ্টি হয়ে যাবে। তাতে না আবার লাভের পরিবর্তে ক্ষতি বেড়ে যায়। যেমন, মানুষ এ মু'জিযা দেখে যদি আমার দিক থেকে ফিরে তার দিকে ঝুঁকে যায়। সামান্য বাড়াবাড়িতে না আবার রাজত্বই চলে যায়। কাজেই সে উত্তরই দেয় নি। অথবা তার কাছে এ প্রশ্নের কোন উত্তরই ছিল না। এ জন্য সে হতভম্ব হয়ে পড়ে। [বয়ানুল কুরআন]
— الترجمة البنغالية
২৫৮. হে নবী! আপনি কি সেই গাদ্দারের দুঃসাহসিকতার চেয়ে আরো আশ্চর্য কোন কিছু দেখেছেন যে ইব্রাহীম (আলাইহিস-সালাম) এর সাথে আল্লাহর রাজত্ব ও কর্মকাÐ বিষয়ে ঝগড়া করেছে? আল্লাহ তা‘আলা তাকে ক্ষমতা দিয়েছেন। আর সে গাদ্দারি করতে শুরু করলো। ইব্রাহীম (আলাইহিস-সালাম) তাঁর প্রভুর বৈশিষ্ট্যাবলী বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন: আমার প্রভু সকল সৃষ্টির জীবন ও মৃত্যু দিয়ে থাকেন। তখন গাদ্দারটি হঠকারিতা দেখিয়ে বললো: আমিও তো জীবন-মৃত্যু দিতে পারি। আমি যাকে চাইবো হত্যা করবো। আর যাকে চাইবো ক্ষমা করবো। তখন ইব্রাহীম (আলাইহিস-সালাম) আরো একটি বড় প্রমাণ দাঁড় করিয়ে বললেন: আমার প্রভু যাঁর ইবাদাত আমি করছি তিনি তো সূর্যকে পূর্ব দিক থেকে উদিত করেন। তোমার সাধ্য থাকলে তুমি তা পশ্চিম দিক থেকে উদিত করে দেখাও। গাদ্দারটি তখন অস্থির হয়ে পড়লো এবং তার কথা একেবারেই বন্ধ হয়ে গেলো। উপরন্তু সে শক্তিশালী প্রমাণের সামনে পরাজিত হলো। আর আল্লাহ তা‘আলা যালিমদেরকে তাদের যুলুম ও হঠকারিতার দরুন তাঁর সঠিক পথে চলার তাওফীক দেন না।
— الترجمة البنغالية للمختصر في تفسير القرآن الكريم