তোমরা যদি শোকর-গুজার হও [১] এবং ঈমান আন, তবে তোমাদের শাস্তি দিয়ে আল্লাহ কি করবেন? আর আল্লাহ (শোকরের) পুরস্কার দাতা, সর্বজ্ঞ।
[১] আয়াতে শোকর শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। এর আসল অর্থ হচ্ছে নেয়ামতের স্বীকৃতি দেয়া ও কৃতজ্ঞতা স্বীকার করা এবং অনুগৃহীত হওয়া। এ ক্ষেত্রে আয়াতের অর্থ হচ্ছে, যদি তোমরা আল্লাহর প্রতি অকৃতজ্ঞ না হও এবং তাঁর সাথে নিমকহারামী না কর; বরং যথার্থই তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞ ও শোকর আদায়কারী হও তাহলে আল্লাহ অনর্থক তোমাদের শাস্তি দেবেন না। মোটকথা: আল্লাহ তা’আলা ঈমানদার এবং শোকরগুজারকে শাস্তি দিবেন না। [তাবারী] কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, অনুগ্রহকারীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের সঠিক পদ্ধতি কি? বস্তুতঃ হৃদয়ের সমগ্র অনুভূতি দিয়ে তার অনুগ্রহের স্বীকৃতি দেয়া, মুখে এ অনুভূতির স্বীকারোক্তি করা এবং কার্যকলাপের মাধ্যমে অনুগৃহীত হওয়ার প্রমাণ পেশ করাই হচ্ছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশের সঠিক উপায়। এ তিনটি কাজের সমবেত রূপই হচ্ছে শোকর। এ শোকরের দাবী হচ্ছে প্রথমতঃ অনুগ্রহকে অনুগ্রহকারীর অবদান বলে স্বীকার করা। অনুগ্রহের স্বীকৃতি দেয়ার ক্ষেত্রে অনুগ্রহকারীর সাথে আর কাউকে অংশীদার না করা। দ্বিতীয়তঃ অনুগ্রহকারীর প্রতি ভালবাসা, বিশ্বস্ততা ও আনুগত্যের অনুভূতি নিজের হৃদয়ে ভরপুর থাকা এবং অনুগ্রহকারীর বিরোধীদের প্রতি এ প্রসঙ্গে বিন্দুমাত্র ভালবাসা, আন্তরিকতা, আনুগত্য ও বিশ্বস্ততার সম্পর্ক না থাকা। তৃতীয়তঃ অনুগ্রহকারীর আনুগত্য করা, তার হুকুম মেনে চলা, তার নেয়ামগুলোকে তার মর্জির বাইরে ব্যবহার না করা।
— الترجمة البنغالية
১৪৭. তোমাদেরকে শাস্তি দেয়ার আল্লাহর কোন প্রয়োজন নেই। যদি তোমরা তাঁর কৃতজ্ঞতা আদায় করো এবং তাঁর উপর ঈমান আনো। কারণ, তিনি দয়াশীল করুণাময়। তবে তিনি তোমাদের গুনাহের দরুন শাস্তি দিবেন। নিজের আমলগুলোকে যথাযথ করে তাঁর নিয়ামতগুলোর কৃতজ্ঞতা আদায় করলে আর তাঁর উপর প্রকাশ্যে ও অপ্রকাশ্যে ঈমান আনলে তিনি কখনোই তোমাদেরকে শাস্তি দিবেন না। বস্তুতঃ আল্লাহ তা‘আলা তাঁর নিয়ামত স্বীকারকারীদের প্রতি কৃতজ্ঞ। তাই তিনি তাদেরকে এর সাওয়াব দিবেন। আর তিনি তাঁর সৃষ্টির ঈমান সম্পর্কে অবগত। তাই অচিরেই তিনি প্রত্যেককে তার আমলের প্রতিদান দিবেন।
— الترجمة البنغالية للمختصر في تفسير القرآن الكريم