অতঃপর তোমাদের কি হল যে, তোমরা মুনাফেকদের ব্যাপারে দু’দল হয়ে গেলে? যখন আল্লাহ তাদেরকে তাদের কৃতকর্মের জন্য পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে দিয়েছেন [১]। আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট করেন তোমরা কি তাকে সৎপথে পরিচালিত করতে চাও? আর আল্লাহ কাউকেও পথভ্রষ্ট করলে আপনি তার জন্য কখনো কোন পথ পাবেন না [২]।— الترجمة البنغالية
বারতম রুকূ‘
[১] যায়েদ ইবন সাবেত রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ওহুদের যুদ্ধে বের হলেন তখন তার সাথীদের মধ্য থেকে কিছু লোক ফিরে চলে আসলেন। তাদের ব্যাপারে সাহাবাগণ দ্বিমত পোষণ করলেন । কেউ বললেন হত্যা করব, কেউ বললেন হত্যা করব না। তখন এ আয়াত নাযিল হয় এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এই মদীনা নগরী কিছু মানুষকে দেশান্তর করে যেমনিভাবে আগুন দূর করে লোহার ময়লাকে। [বুখারীঃ ১৮৮৪, ৪০৫০, ৪৫৮৯, মুসলিমঃ ১৩৮৪, ২৭৭৬]
[২] এ আয়াতে যেভাবে ব্যক্ত করা হয়েছে যে, যাদেরকে আল্লাহ তা’আলা পথভ্রষ্ট করেছেন, তাদের জন্য পথের দিশা পাওয়ার কোন উপায়ই অবশিষ্ট নেই। অন্য আয়াতেও আল্লাহ্ তা’আলা তা স্পষ্ট বলেছেন। আল্লাহ বলেন, “আর আল্লাহ যাকে ফিতনায় ফেলতে চান তার জন্য আল্লাহর কাছে আপনার কিছুই করার নেই। এরাই হচ্ছে তারা যাদের হৃদয়কে আল্লাহ বিশুদ্ধ করতে চান না; তাদের জন্য আছে দুনিয়ায় লাঞ্ছনা আর আখেরাতে রয়েছে তাদের জন্য মহাশাস্তি” [সূরা আল-মায়িদাহ ৪১] অন্য আয়াতে এসেছে, “আল্লাহ যাদেরকে বিপথগামী করেন তাদের কোন পথপ্রদর্শক নেই" সূরা আল-আরাফ: ১৮৬]
৮৮. হে মু’মিনরা! তোমাদের কী হলো, তোমরা নিজেরা মুনাফিকদের সাথে আচরণের ব্যাপারে দু’ দলে বিভক্ত হলে কেন? একদল বলছে তাদের সাথে যুদ্ধ করতে। কারণ, তারা আসলেই কাফির। আরেক দল বলছে তাদের সাথে যুদ্ধ না করতে। কারণ, তারা মু’মিন?! তাদের ব্যাপারে মতভেদ করা তোমাদের জন্য উচিত নয়। আল্লাহ তা‘আলা তাদের কর্মের কারণে তাদেরকে কুফরি ও ভ্রষ্টতার দিকে ফিরিয়ে দিয়েছেন। তোমরা কি চাও ওদেরকে হিদায়েত করতে যাদেরকে আল্লাহ তা‘আলা সত্য গ্রহণের তাওফীক দেননি?! আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট করেছেন তুমি তার জন্য কোন হিদায়েতের রাস্তা খুঁজে পাবে না।— الترجمة البنغالية للمختصر في تفسير القرآن الكريم