সে রাসুলগণ আমরা তাদের কাওকে অপর কারো উপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছি। তাদের মধ্যে এমন কেও রয়েছেন যার সাথে আল্লাহ্ কথা বলেছেন [১] , আবার কাউকে উচ্চ মর্যাদায় উন্নীত করেছেন। আর মার্ইয়াম-পুত্র ‘ঈসাকে আমরা স্পষ্ট প্রমানাদি প্রদান করেছি ও রুহুল কুদুস দ্বারা তাকে শক্তিশালী করেছি। আর আল্লাহ্ ইচ্ছে করলে তাদের পরবর্তীরা তাদের নিকট স্পষ্ট প্রমাণাদি সমাগত হওয়ার পরও পারস্পরিক যুদ্ধ বিগ্রহে লিপ্ত হত না; কিন্তু তারা মতভেদ করল। ফলে তাদের কেউ কেউ ঈমান আনল এবং কেউ কেউ কুফরী করল। আর আল্লাহ্ ইচ্ছে করলে তারা পারস্পরিক যুদ্ধ-বিগ্রহে লিপ্ত হত না; কিন্তু আল্লাহ্ যা ইচ্ছে তা করেন।
____________________
[১] ‘কথা বলা’ আল্লাহ্ তা'আলার একটি গুণ। তিনি যখন যেভাবে ইচ্ছা শ্রুত বাক্য দ্বারা কথা বলেন। কথা বলার এ গুণটির উপর কুরআন ও সুন্নাহর বহু দলীল রয়েছে। আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ “এবং মূসার সাথে আল্লাহ্ কথা বলেছিলেন”। [সূরা আন-নিসাঃ ১৬৪]
আল্লাহ্ আরও বলেনঃ “আর মূসা যখন আমার নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত হলেন এবং তার রব তার সাথে কথা বললেন, তখন মূসা বললেনঃ হে আমার রব! আমাকে দর্শন দান করুন, আমি আপনাকে দেখব”। [সূরা আল-আ’রাফঃ ১৪৩]
আর সুন্নাহ হতে দলীল হলো, আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ‘আদম ও মূসা বাদানুবাদে লিপ্ত হলেন। মূসা আদমকে বললেন, হে আদম! আপনি আমাদের পিতা। আমাদেরকে নিরাশ করে আপনি আমাদেরকে জান্নাত থেকে বের করে নিয়ে এসেছেন। আদম তাকে বললেন, হে মূসা! আল্লাহ্ আপনাকে কথপোকথন দ্বারা নির্বাচিত করেছেন এবং নিজ হস্তে আপনাকে তাওরাত লিখে দিয়েছেন......। [বুখারীঃ ৬৬১৪, মুসলিমঃ ২৬৫২]
তবে মূসা ‘আলাইহিস সালাম-এর সাথে আল্লাহ্ তা'আলা ফেরেশ্তাদের মাধ্যম ব্যতীত কথা বললেও তা অন্তরালমুক্ত ছিল না। কেননা, সূরা শুরার
(وَمَا كَانَ لِبَشَرٍ اَنْ يُّكَلِّمَهُ اللّٰهُ)
(কোন মানুষের পক্ষে আল্লাহ্র সাথে কথা বলা বাস্তবসম্মত নয়) আয়াতে অন্তরালমুক্তভাবে আল্লাহ্ তা'আলার সাথে কথা বলার বিষয়টিকে নাকচ করা হয়েছে। অবশ্য মৃত্যুর পর কোন রকম অন্তরাল বা যবনিকা ছাড়াই কথাবার্তা হবে বলে প্রমাণিত হয়েছে। তাই সূরা আশ্-শুরার সে আয়াতটি দুনিয়ার জীবনের সাথে সম্পৃক্ত।
____________________
[১] ‘কথা বলা’ আল্লাহ্ তা'আলার একটি গুণ। তিনি যখন যেভাবে ইচ্ছা শ্রুত বাক্য দ্বারা কথা বলেন। কথা বলার এ গুণটির উপর কুরআন ও সুন্নাহর বহু দলীল রয়েছে। আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ “এবং মূসার সাথে আল্লাহ্ কথা বলেছিলেন”। [সূরা আন-নিসাঃ ১৬৪]
আল্লাহ্ আরও বলেনঃ “আর মূসা যখন আমার নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত হলেন এবং তার রব তার সাথে কথা বললেন, তখন মূসা বললেনঃ হে আমার রব! আমাকে দর্শন দান করুন, আমি আপনাকে দেখব”। [সূরা আল-আ’রাফঃ ১৪৩]
আর সুন্নাহ হতে দলীল হলো, আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ‘আদম ও মূসা বাদানুবাদে লিপ্ত হলেন। মূসা আদমকে বললেন, হে আদম! আপনি আমাদের পিতা। আমাদেরকে নিরাশ করে আপনি আমাদেরকে জান্নাত থেকে বের করে নিয়ে এসেছেন। আদম তাকে বললেন, হে মূসা! আল্লাহ্ আপনাকে কথপোকথন দ্বারা নির্বাচিত করেছেন এবং নিজ হস্তে আপনাকে তাওরাত লিখে দিয়েছেন......। [বুখারীঃ ৬৬১৪, মুসলিমঃ ২৬৫২]
তবে মূসা ‘আলাইহিস সালাম-এর সাথে আল্লাহ্ তা'আলা ফেরেশ্তাদের মাধ্যম ব্যতীত কথা বললেও তা অন্তরালমুক্ত ছিল না। কেননা, সূরা শুরার
(وَمَا كَانَ لِبَشَرٍ اَنْ يُّكَلِّمَهُ اللّٰهُ)
(কোন মানুষের পক্ষে আল্লাহ্র সাথে কথা বলা বাস্তবসম্মত নয়) আয়াতে অন্তরালমুক্তভাবে আল্লাহ্ তা'আলার সাথে কথা বলার বিষয়টিকে নাকচ করা হয়েছে। অবশ্য মৃত্যুর পর কোন রকম অন্তরাল বা যবনিকা ছাড়াই কথাবার্তা হবে বলে প্রমাণিত হয়েছে। তাই সূরা আশ্-শুরার সে আয়াতটি দুনিয়ার জীবনের সাথে সম্পৃক্ত।
الترجمة البنغالية
২৫৩. এ রাসূলগণ যাদের কথা আমি ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি তাদের কিছু সংখ্যককে আমি অন্যের উপর ওহী, অনুসারী ও মর্যাদার ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছি। তাদের কারো সাথে আল্লাহ কথা বলেছেন যেমন: মূসা। আর কারো মর্যাদা সুউচ্চ করেছেন যেমন: মুহাম্মাদ। তাঁকে আল্লাহ তা‘আলা সকল মানুষের নিকট পাঠিয়েছেন এবং তাঁর মাধ্যমেই নবুওয়াত সমাপ্তি লাভ করে। উপরন্তু তাঁর উম্মতকে সকল উম্মতের উপর শ্রেষ্ঠত্ব দেয়া হয়েছে। আর আমি ঈসা বিন মারইয়ামকে সুস্পষ্ট মু’জিযাহ দিয়েছি যা তাঁর নবুওয়াত প্রমাণ করে। যেমন: মৃত ব্যক্তিকে জীবিত করা এবং জন্মান্ধ ও কুষ্ঠরোগীকে সুস্থ করে দেয়া। তেমনিভাবে আমি তাঁকে জিব্রীলের মাধ্যমে শক্তিশালী করেছি যাতে তিনি আল্লাহর দেয়া দায়িত্ব আদায় করতে পারেন। আল্লাহ চাইলে রাসূলদের পরের লোকেরা হত্যাকাÐ চালাতে পারতো না। কারণ, তাদের নিকট সুস্পষ্ট নিদর্শনসমূহ এসেছে। তারা দ্ব›দ্ব করে পরস্পর বিভক্ত হয়ে গেছে। তাদের কেউ আল্লাহর উপর ঈমান এনেছে। আবার কেউ তাঁর সাথে কুফরি করেছে। মূলতঃ আল্লাহ চাইলে তারা কখনো হত্যাকাÐ চালাতে পারতো না। তবে আল্লাহ তা‘আলা যা চান তাই করেন। তিনি যাকে চান তাকে তাঁর দয়া ও করুণায় ঈমানের দিশা দেন। আর যাকে চান তাকে তাঁর ইনসাফ ও হিকমতের ভিত্তিতে পথভ্রষ্ট করেন।
الترجمة البنغالية للمختصر في تفسير القرآن الكريم