আর যখন তোমরা বলেছিলে, ‘হে মূসা ! আমারা একই রকম খাদ্যে কখনও ধৈর্য ধারণ করবো না। সুতরাং তুমি তোমার রব-এর কাছে আমাদের জন্য প্রার্থনা কর – তিনি যেন আমাদের জন্য ভূমিজাত দ্রব্য শাক-সবজি, কাঁকুড়, গম, মসুর ও পেঁয়াজ উৎপাদন করেন’। মূসা বললেন, ‘তোমরা কি উত্তম জিনিসের বদলে নিম্নমানের জিনিস চাও ? তবে কোন শহরে চলে যাও, তোমরা যা চাও, সেখানে তা আছে’ [১]। আর তাদের উপর লাঞ্ছনা ও দারিদ্র্য আপতিত হলো এবং তারা আল্লাহ্র গযবের শিকার হলো। এটা এ জন্য যে , তারা আল্লাহ্র আয়াতসমূহকে অস্বিকার করতো এবং নবীদের কে অন্যায়ভাবে হত্যা করতো [২]। অবাধ্যতা ও সীমালঙ্ঘন করার জন্যই তাদের এ পরিণতি হয়েছিল [৩]।
____________________
[১] তীহ্ উপত্যকায় ‘মান্না’ ও ‘সালওয়া’র প্রতি বীতশ্রদ্ধ হয়েই তারা ওসব শব্জী ও শস্যের জন্য আবেদন করলো। এ প্রান্তরের সীমান্তবর্তী এলাকায় একটি শহর ছিল। সেখানে গিয়ে চাষাবাদ করে উৎপন্ন ফসলাদি ভোগের নির্দেশ দেয়া হলো। আল্লাহ্ তাআলা মূসা ‘আলাইহিস সালাম-এর মাধ্যমে পূর্বেই তাদেরকে সাবধান করে দিয়েছিলেন যে, যদি নির্দেশ অমান্য কর, তবে চিরকাল তোমরা অন্য জাতির দ্বারা শাসিত হতে থাকবে। যেমন, বলা হয়েছে
(وَاِذْ تَاَذَّنَ رَبُّكَ لَيَبْعَثَنَّ عَلَيْهِمْ اِلٰي يَوْمِ الْقِيٰمَةِ مَنْ يَّسُوْمُهُمْ سُوْءَ الْعَذَابِ)
‘আর সে সময়টি স্মরণ করুন, যখন আপনার রব জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, নিশ্চয় তিনি ইয়াহুদিদের উপর কেয়ামত পর্যন্ত এমন শাসক প্রেরণ করতে থাকবেন, যারা তাদের প্রতি কঠোর শাস্তি পৌছাতে থাকবে। [সূরা আল-আরাফ: ১৬৭]
[২] হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “কিয়ামতের দিন সবচেয়ে বেশী আযাব হবে সে লোকের যাকে কোন নবী হত্যা করেছে, অথবা কোন নবীকে হত্যা করেছে। আর ভ্রষ্ট ইমাম বা নেতা এবং ভাস্কর্য নির্মাণকারী। ” [মুসনাদে আহমাদ: ৬/৪১৩,৪১৫]
[৩] কাতাদাই এ আয়াতের তাফসীরে বলেন, তোমরা আল্লাহ্র অবাধ্যতা ও সীমালঙ্ঘন হতে নিজেদেরকে বাঁচিয়ে রাখ; কেননা পূর্বেকার লোকেরা এ দু'টির কারণেই ধ্বংস হয়েছিল।
[আত-তাফসীরুস সহীহ]
____________________
[১] তীহ্ উপত্যকায় ‘মান্না’ ও ‘সালওয়া’র প্রতি বীতশ্রদ্ধ হয়েই তারা ওসব শব্জী ও শস্যের জন্য আবেদন করলো। এ প্রান্তরের সীমান্তবর্তী এলাকায় একটি শহর ছিল। সেখানে গিয়ে চাষাবাদ করে উৎপন্ন ফসলাদি ভোগের নির্দেশ দেয়া হলো। আল্লাহ্ তাআলা মূসা ‘আলাইহিস সালাম-এর মাধ্যমে পূর্বেই তাদেরকে সাবধান করে দিয়েছিলেন যে, যদি নির্দেশ অমান্য কর, তবে চিরকাল তোমরা অন্য জাতির দ্বারা শাসিত হতে থাকবে। যেমন, বলা হয়েছে
(وَاِذْ تَاَذَّنَ رَبُّكَ لَيَبْعَثَنَّ عَلَيْهِمْ اِلٰي يَوْمِ الْقِيٰمَةِ مَنْ يَّسُوْمُهُمْ سُوْءَ الْعَذَابِ)
‘আর সে সময়টি স্মরণ করুন, যখন আপনার রব জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, নিশ্চয় তিনি ইয়াহুদিদের উপর কেয়ামত পর্যন্ত এমন শাসক প্রেরণ করতে থাকবেন, যারা তাদের প্রতি কঠোর শাস্তি পৌছাতে থাকবে। [সূরা আল-আরাফ: ১৬৭]
[২] হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “কিয়ামতের দিন সবচেয়ে বেশী আযাব হবে সে লোকের যাকে কোন নবী হত্যা করেছে, অথবা কোন নবীকে হত্যা করেছে। আর ভ্রষ্ট ইমাম বা নেতা এবং ভাস্কর্য নির্মাণকারী। ” [মুসনাদে আহমাদ: ৬/৪১৩,৪১৫]
[৩] কাতাদাই এ আয়াতের তাফসীরে বলেন, তোমরা আল্লাহ্র অবাধ্যতা ও সীমালঙ্ঘন হতে নিজেদেরকে বাঁচিয়ে রাখ; কেননা পূর্বেকার লোকেরা এ দু'টির কারণেই ধ্বংস হয়েছিল।
[আত-তাফসীরুস সহীহ]
الترجمة البنغالية
৬১. আর সে সময়ের কথাও স্মরণ করো যখন তোমরা নিজেদের প্রতিপালকের নিয়ামতের প্রতি অকৃতজ্ঞ হয়েছিলে। তোমরা তাঁর নাযিল করা মধুর ন্যায় সুমিষ্ট পানীয় এবং সুস্বাদু গোস্তের ছোট কোয়েল পাখি খাওয়ার ব্যাপারে বিরক্তি প্রকাশ করে বললে: আমরা এক জাতীয় খাবার আর সহ্য করতে পারছি না। অতঃপর তোমরা মূসা (আলাইহিস-সালাম) এর নিকট আবেদন করে বললে: হে মূসা! আপনি আল্লাহ তা‘আলার নিকট দু‘আ করুন যেন তিনি জমিনের ফসল থেকে তোমাদের জন্য শাক-সবজি, শসা - যা ক্ষীরার ন্যায় তবে ক্ষীরার চেয়ে একটু বড় - ডাল, পিয়াজ ও দানা জাতীয় খাদ্যের ব্যবস্থা করেন। তখন মূসা (আলাইহিস-সালাম) তোমাদের আবেদনের প্রতি তিরস্কার করে বললেন: তোমরা কি এ নি¤œ ও অনুন্নত জিনিস দিয়ে উত্তম ও সম্মানজনক তথা মধুর ন্যায় সুমিষ্ট পানীয় এবং সুস্বাদু গোস্তের ছোট কোয়েল পাখিকে পরিবর্তন করতে চাও। অথচ তা তোমাদের নিকট বিনা কষ্ট ও পরিশ্রমে আসতো। তোমরা এখান থেকে যে কোন এলাকার দিকে বের হয়ে যাও। সেখানকার ক্ষেতে ও বাজারে তোমরা যা চেয়েছো তা পাবে। তবে নিজেদের প্রবৃত্তির অনুসরণ এবং আল্লাহর নির্বাচিত বস্তু থেকে তাদের বার বার মুখ ফিরিয়ে নেয়ার দরুন তাদেরকে দরিদ্রতা, লাঞ্ছনা ও দুরবস্থা দীর্ঘস্থায়ীভাবে পেয়ে বসেছে। উপরন্তু তারা আল্লাহর রোষানলে পতিত হয়েছে। কারণ, তারা তাঁর ধর্ম থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে, তাঁর আয়াতসমূহের সাথে কুফরি করেছে। এমনকি তাঁর নবীদেরকে জুলুম ও অত্যাচার করে হত্যা করেছে। বস্তুতঃ তারা আল্লাহর অবাধ্য হয়েছে এবং তাঁর দেয়া সীমাগুলো লঙ্ঘন করেছে।
الترجمة البنغالية للمختصر في تفسير القرآن الكريم